যুদ্ধ মুক্ত নিরপেক্ষ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আহ্বান।
বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যাক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ও তৎপরতা চলমান থাকা সত্ত্বেও, বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষদের সর্বদাই কোন না কোন বৈশ্বিক ঘটনার কারনে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনযাপন করতে হয়। তাই বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা আদৌ সম্ভব কিনা তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তা না হলে মানব সভ্যতা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যার্থ ও বিভ্রান্ত হবে এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হবে। বিশ্বের প্রতিটি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো, নিজের চাহিদা ও ইচ্ছা পুরণের জন্য সাধ্যমত প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। নিজের মতামত ও আদর্শ অন্যকে মেনে নিতে সম্মত বা বাধ্য করা। নিজের চেয়ে কম ক্ষমতা ও যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষদের নিজের অনুগত ও বাধ্য রাখার চেষ্টা করা। নিজের ক্ষমতা ও যোগ্যতাবলে যতটা সম্ভব তত বেশি সম্পদের অধিকারী হওয়া। পৃথিবীতে সবাই জয়ী হতে চায়। কারো জয়ের অর্থ হলো অন্যের পরাজয়। কিন্তু পরাজয় মেনে নেয়াটা মানুষের স্বভাব নয়। পরাজয় মেনে নেয়ার চেয়ে বিজয় মুকুট পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অথবা প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের আগ্রহই আধিকাংশ মানুষের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় যা ব্যক্তি, দল বা কোন সম্প্রদায়ের মনুষদের মাঝে দীর্ঘকাল ব্যাপী চলমান থাকে।
বর্তমান বিশ্বে বসবাসকারি প্রায় ৮৩০ কোটি মানুষের সবার মধ্যে এই বৈশিষ্টগুলি কমবেশি বিদ্যমান থাকলেও, সবার সামর্থ্য, যোগ্যতা, ক্ষমতা, সুযোগ সুবিধা ও চাহিদা সমান, নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ নয় এবং এই বৈশিষ্টগুলি সময়ের সাথে যুগের চাহিদামাফিক পরিবর্তনশীল। অধিকন্তু, বিশ্বে সুযোগ সুবিধা ও সম্পদের পরিমান সর্বত্র সমান কিংবা অসীম নয়। সুতরাং, বিশ্বব্যাপী সময়ের সাথে মানব সভ্যতায় বিরাজমান ক্ষমতা, চাহিদা ও মতাদর্শের পার্থক্য থাকায় এবং তা পরিবর্তনশীল হওয়ায় ; মানুষে মানুষে ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিতর্ক, দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও যুদ্ধ অনিবার্য ও অবধারিত।
আঞ্চলিক কোন দ্বন্দ্ব সংঘাত থেকে বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হওয়া অসম্ভব নয়। বর্তমান সময়ের বিশ্বযুদ্ধে পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলি যদি পরমানু অস্ত্র ব্যাবহার শুরু করে, তাহলে মানব সভ্যতার সমস্ত অর্জন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। মানব সভ্যতা যদি যথেষ্ট বুদ্ধিমান হয়ে থাকে তাহলে তাদের বৈশিষ্ট হওয়া উচিৎ, কোন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকলে তা সংঘটিত হবার পূর্বেই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা। যেহেতু যুদ্ধ, সংঘাত অনিবার্য এবং মানুষের হাতে বর্তমানে ব্যাপক বিধ্বংসী আস্ত্রের পর্যাপ্ত মজুত বিদ্যমান, সুতরাং অপ্রত্যাশিত কোন বিপর্যয় ঘটার পূর্বেই বিশ্বের কিছু মানুষের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যুদ্ধ মুক্ত নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে এখনই পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিৎ। এই বিষয়ে আমাদের অবহেলা ও নির্লিপ্ততার কারনে মানব সভ্যতাকে পুনরায় ঢাল তলোয়ারের যুগে ফিরে যেতে হতে পারে। তাই মানব সভ্যতার সমস্ত অর্জনকে অক্ষত রাখতে হলে আমাদের সর্বসম্মতিক্রমে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপদ ও নিরপেক্ষ অঞ্চল গড়ে তোলা উচিৎ। ভৌগলিক অবস্থানগত কারনে বিচ্ছিন্ন থাকায় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিন মেরু অঞ্চলে এমন একটি নিরপেক্ষ অঞ্চল গড়ে তোলা যেতে পারে। বিশ্বের প্রতিটি দেশের সবাই দল মত নির্বিশেষে যদি এই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌছাতে সক্ষম হয় তাহলে উক্ত অঞ্চলে চীরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এই ব্যাবস্থা গৃহীত হলে কোন রাষ্ট্র, ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের, কোনরুপ ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা নাই।
বিশ্বব্যাপী দ্বন্দ্ব সংঘাত ছড়িয়ে পড়লেও, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরপেক্ষ অঞ্চলের বাসিন্দারা নিরপেক্ষ ও নিষ্ক্রীয় ভূমিকা পালন করবে এবং বিশ্বের কোন দেশ নিরপেক্ষ ঘোষিত অঞ্চলে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। বিশ্বের বুকে এমন একটি যুদ্ধমুক্ত, নিরাপদ ও নিরপেক্ষ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ নিতে সবাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমাদের এই ক্ষুদ্র পদক্ষেপের কারনে হয়তো কোন একদিন মানব সভ্যতা বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। পক্ষান্তরে আমাদের অবহেলা, নির্লিপ্ততা, বিতর্ক বা মতভেদের কারনে অযথা সময়ক্ষেপন, মানব সভ্যতা বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। আপনার একটি সিদ্ধান্ত, সমর্থন ও ক্ষুদ্র একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে যদি বিশ্বের বুকে একটি জনগোষ্ঠিকে অক্ষত রাখা সম্ভব হয়, তাহলে আপনার এই সামান্য অবদান আপনার জীবনকে সার্থক করে তুলবে। গোটা বিশ্বে যদি কখনো যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই যুদ্ধে যদি আপনার প্রাণহানি ঘটে, তবুও আপনি একটি সান্ত্বনা নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারবেন। এমনও হতে পারে আপনার একমাত্র সন্তান নিরাপদ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে অক্ষত থাকবে। একবার ভেবে দেখুন, এমন একটি নিরাপদ ও নিরপেক্ষ অঞ্চল বিশ্বের বুকে থাকার প্রয়োজন আছে কিনা ? আপনি চাইলেই তা সম্ভব।
যুদ্ধ মুক্ত নিরপেক্ষ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব যদি অবান্তর বা অবাস্তব মনে হয় তাহলে একটি বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে। বিশ্বের কোন রাষ্ট্র যদি অন্য কোন স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সামরিক হামলা চালায়, তবে তাদেরকে বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় হামলা না চালানোর শর্ত মেনে নিতে হবে। আপনি যে দেশের নাগরিক উক্ত দেশ এই শর্তে সম্মত আছে কিনা, তা খোজ নিয়ে দেখতে পারেন। চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের এমন প্রস্তাব যদি বাস্তবসম্মত মনে হয়, তাহলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যুদ্ধ মুক্ত নিরপেক্ষ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় ঐক্যমত্তে পৌছানো অসম্ভব নয়।
ইচ্ছা পূরণ কেন্দ্র আছে আপনার পাশে আপনার ইচ্ছা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন